বিশ্বস্পন্দন
সরাসরি আপডেট — বস্তুনিষ্ঠ সংবাদের বিশ্বস্ত প্ল্যাটফর্ম
Online version
অনলাইন সংস্করণ
বিজ্ঞাপন ব্যানার স্পেস — বিশেষ প্রচারণা ও অফার
⚡ সর্বশেষ খবর
সর্বশেষ খবর লোড হচ্ছে...
DSE SHARE MARKET Loading...
Loading share prices...
Source: StockChartBD / DSE Intelligence · Daily price data · Delayed

‘দেশে গণগ্রেপ্তার চলছে’: সরকারের বিরুদ্ধে শেখ হাসিনার অভিযোগ

Dhaka street illustration with parliament building and barricades

বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা অভিযোগ করেছেন, দেশে গণগ্রেপ্তার, গণতল্লাশি ও নির্যাতন চলছে এবং বর্তমান সরকার রাজনৈতিক প্রতিপক্ষকে দমন করছে। মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর ২০২৬) বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে তিনি এসব অভিযোগ তোলেন। সংবাদ সংস্থা পিটিআই ও আইএএনএসের খবরে বিবৃতির বক্তব্য উঠে এসেছে।

বিবৃতিতে যা বলা হয়েছে

বিবৃতিতে শেখ হাসিনা বলেন, বর্তমান বাংলাদেশ গণগ্রেপ্তার, গণতল্লাশি, নির্যাতন, মিথ্যা মামলা, বিচারবহির্ভূত হত্যা ও মানবাধিকার লঙ্ঘনের দেশে পরিণত হয়েছে। তাঁর ভাষায়, দেশে এখন আইন, অধিকার ও জননিরাপত্তা বলতে কিছু নেই। তিনি দেশের মানুষের মৌলিক অধিকার ও আইনি সুরক্ষা নিশ্চিত করার দাবি জানান।

গোপালগঞ্জ ও প্রতিদিনের গ্রেপ্তারের দাবি

হাসিনার অভিযোগ, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী গোপালগঞ্জসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় ব্লক রেইড ও গণতল্লাশি চালাচ্ছে। তাঁর দাবি, প্রতিদিন পাঁচ হাজার থেকে সাত হাজার মানুষ গ্রেপ্তার হচ্ছেন। আইএএনএসের প্রতিবেদন অনুযায়ী, তিনি আরও বলেন, কারাগারগুলো এতটাই ভর্তি যে সেখানে আর জায়গা নেই বললেই চলে, আর গ্রেপ্তার হওয়া ব্যক্তি ও তাঁদের পরিবারের সদস্যদের ওপর নির্যাতন সরকারের কর্তৃত্ববাদী চরিত্র প্রকাশ করেছে। এসব সংখ্যা ও অভিযোগ হাসিনার বিবৃতির বক্তব্য; সংবাদ প্রতিবেদনগুলোতে এর স্বতন্ত্র যাচাইয়ের তথ্য দেওয়া হয়নি।

তিনি আরও অভিযোগ করেন, আওয়ামী লীগের সদস্য হওয়ার অধিকার থেকেও মানুষকে বঞ্চিত করা হচ্ছে এবং দলটিকে দেশ থেকে নিশ্চিহ্ন করার একটি পরিকল্পিত অভিযান চলছে। তাঁর ভাষায়, কারচুপির নির্বাচনের মাধ্যমে ক্ষমতায় আসা সরকার আওয়ামী লীগকে নির্মূল করার মিশনে নেমেছে।

অর্থনীতি নিয়ে সমালোচনা

রাজনৈতিক অভিযোগের পাশাপাশি হাসিনা বর্তমান সরকারের অর্থনৈতিক ব্যবস্থাপনারও সমালোচনা করেন। তাঁর অভিযোগ, গ্যাস, বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও সারের ঘাটতি, নিত্যপণ্যের দাম বৃদ্ধি, বেকারত্ব, কলকারখানা বন্ধ হয়ে যাওয়া এবং বিনিয়োগে মন্দা দেখা দিয়েছে।

হাসিনার বর্তমান অবস্থান ও প্রেক্ষাপট

২০২৪ সালের ছাত্র-নেতৃত্বাধীন আন্দোলনের পর ৫ আগস্ট ২০২৪ হাসিনার সরকারের পতন হয় এবং তিনি ভারতে চলে যান। তারপর থেকে তিনি ভারতেই অবস্থান করছেন। তাঁর পতনের পর দায়িত্ব নেওয়া অন্তর্বর্তী সরকার সন্ত্রাসবিরোধী আইনের অধীনে নির্বাহী আদেশে আওয়ামী লীগকে নিষিদ্ধ করে। ২০২৫ সালের নভেম্বরে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল ২০২৪ সালের বিক্ষোভ দমনে ভূমিকার দায়ে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় তাঁকে অনুপস্থিতিতে মৃত্যুদণ্ড দেন। হাসিনা এসব অভিযোগকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে প্রত্যাখ্যান করেছেন। বাংলাদেশ তাঁর প্রত্যর্পণ চেয়ে আসছে, আর নয়াদিল্লি জানিয়েছে বিষয়টি আইনি বিবেচনাধীন রয়েছে।

এই বিবৃতি এমন এক সময়ে এল, যখন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন সরকারের বিরুদ্ধে সাবেক প্রধানমন্ত্রীর এই অভিযোগ আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। প্রতিবেদনগুলোতে সরকারের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক কোনো প্রতিক্রিয়া উল্লেখ করা হয়নি।

সূত্র: পিটিআই (ইটিভি ভারত, এবিপি লাইভ, ২৮ অক্টোবর ২০২৬), আইএএনএস (২৭ অক্টোবর ২০২৬), মানি কন্ট্রোল (২৮ অক্টোবর ২০২৬)।

Discussion & Comments

Leave a public comment

Replying to
Loading comments...