বিশ্বস্পন্দন
সরাসরি আপডেট — বস্তুনিষ্ঠ সংবাদের বিশ্বস্ত প্ল্যাটফর্ম
Online version
অনলাইন সংস্করণ
বিজ্ঞাপন ব্যানার স্পেস — বিশেষ প্রচারণা ও অফার
⚡ সর্বশেষ খবর
সর্বশেষ খবর লোড হচ্ছে...
DSE SHARE MARKET Loading...
Loading share prices...
Source: StockChartBD / DSE Intelligence · Daily price data · Delayed

জাতীয় গ্রিডে বিভ্রাট: দুপুরে হঠাৎ বিদ্যুৎহীন ঢাকার পূর্বাঞ্চল ও চট্টগ্রামের একাংশ, সচিবালয়-বাংলাদেশ ব্যাংকেও প্রভাব

মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর ২০২৬) দুপুরে হঠাৎ জাতীয় গ্রিডে বিভ্রাট দেখা দেওয়ায় রাজধানী ঢাকার পূর্বাঞ্চলের বিভিন্ন এলাকা ও চট্টগ্রামের একাংশ বিদ্যুৎহীন হয়ে পড়ে। দুপুর ১২টা ৪৩ মিনিটে এই বিভ্রাট শুরু হয় বলে সংবাদমাধ্যমে জানানো হয়েছে। আকস্মিক বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্নতায় রাজধানীর গুরুত্বপূর্ণ সরকারি দপ্তরসহ সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন কাজে বিঘ্ন ঘটে, আর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে এই খবর।

কোন কোন এলাকায় বিদ্যুৎ ছিল না

বিদ্যুৎ সরবরাহ বিচ্ছিন্ন হওয়া এলাকাগুলোর মধ্যে রয়েছে ভুলতা, হরিপুর, সিদ্ধিরগঞ্জ, গুলশান, রামপুরা, উলন ও মতিঝিলসহ আশপাশের বিভিন্ন এলাকা। এ ছাড়া চট্টগ্রামের একাংশও এই বিভ্রাটের আওতায় পড়ে। ঢাকার পূর্বাঞ্চলের এসব এলাকায় দুপুরের ব্যস্ত সময়ে হঠাৎ আলো নিভে যাওয়ায় বাসাবাড়ি, দোকানপাট ও অফিসে স্বাভাবিক কাজকর্ম ব্যাহত হয়।

সচিবালয় ও বাংলাদেশ ব্যাংকেও প্রভাব

এই বিভ্রাটের প্রভাব পড়ে দেশের প্রশাসনের কেন্দ্র বাংলাদেশ সচিবালয়েও। একটি প্রতিবেদন অনুযায়ী, দুপুর ১২টা ৪০ মিনিট থেকে সচিবালয়ে বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ হয়ে যায়, ফলে বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের দাপ্তরিক কাজ ব্যাহত হয়। প্রায় ১ ঘণ্টা ২০ মিনিট ধরে সচিবালয় বিদ্যুৎহীন থাকার কথা ওই প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। এ ছাড়া বাংলাদেশ ব্যাংকসহ বিভিন্ন এলাকাও বিদ্যুৎহীন হয়ে পড়ে বলে জানানো হয়েছে। সরকারি দপ্তরে বিদ্যুৎ না থাকায় কর্মকর্তা-কর্মচারীদের নিয়মিত কাজ করতে সমস্যায় পড়তে হয়, যা প্রশাসনিক কাজের গতি কমিয়ে দেয়।

পিজিসিবি কী জানিয়েছে

পাওয়ার গ্রিড বাংলাদেশ পিএলসি (পিজিসিবি) জানিয়েছে, বিদ্যুৎ সরবরাহ স্বাভাবিক করতে জাতীয় গ্রিডের সিস্টেম পুনরুদ্ধারের কাজ চলছে এবং প্রকৌশলীরা ধাপে ধাপে বিদ্যুৎ সংযোগ পুনঃস্থাপনের চেষ্টা করছেন। জাতীয় গ্রিডের কার্যক্রম ন্যাশনাল লোড ডিসপ্যাচ সেন্টারের (এনএলডিসি) নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। পিজিসিবি আরও জানিয়েছে, দেশের উত্তরাঞ্চলসহ অন্যান্য এলাকায় বিদ্যুৎ সরবরাহ সচল ও স্বাভাবিক রয়েছে। অর্থাৎ এই বিভ্রাট সারা দেশে ছড়িয়ে পড়েনি, বরং নির্দিষ্ট কিছু এলাকায় সীমাবদ্ধ ছিল।

বিভ্রাটের কারণ এখনো জানা যায়নি

এই প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত বিদ্যুৎ বিভ্রাটের সঠিক কারণ তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি। পুরোপুরি সরবরাহ স্বাভাবিক হতে কত সময় লাগতে পারে, সে বিষয়েও তাৎক্ষণিকভাবে কোনো তথ্য জানানো হয়নি। তাই কারণ নিয়ে কোনো অনুমান বা গুজবে কান না দিয়ে পিজিসিবি বা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের আনুষ্ঠানিক বক্তব্যের জন্য অপেক্ষা করাই নিরাপদ।

সাধারণ মানুষের জন্য এর অর্থ কী

জাতীয় গ্রিড একটি বিশাল ও পরস্পর যুক্ত ব্যবস্থা। এর কোনো অংশে সমস্যা দেখা দিলে সংশ্লিষ্ট এলাকার বিদ্যুৎ সরবরাহ সাময়িকভাবে বন্ধ হয়ে যেতে পারে, আর প্রকৌশলীরা ধাপে ধাপে সংযোগ ফিরিয়ে আনেন যাতে পুরো ব্যবস্থা আবার স্থিতিশীল হয়। দুপুরের মতো ব্যস্ত সময়ে এমন বিভ্রাট হলে অফিস, ব্যাংক, ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ও বাসাবাড়ি—সব জায়গাতেই এর প্রভাব পড়ে। তবে কর্তৃপক্ষের ভাষ্য অনুযায়ী পুনরুদ্ধারের কাজ চলমান থাকায় ধীরে ধীরে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হওয়ার কথা।

পরিশেষে বলা যায়, ২৭ অক্টোবরের এই গ্রিড বিভ্রাট আবারও মনে করিয়ে দিল যে বিদ্যুৎ ব্যবস্থার স্থিতিশীলতা দৈনন্দিন জীবন ও অর্থনীতির জন্য কতটা গুরুত্বপূর্ণ। কারণ জানতে ও ভবিষ্যতে এমন বিভ্রাট এড়াতে কর্তৃপক্ষের আনুষ্ঠানিক ব্যাখ্যার দিকে এখন সবার নজর থাকবে। বিদ্যুৎ সরবরাহ পুরোপুরি স্বাভাবিক হয়েছে কি না, সে বিষয়ে নতুন তথ্য এলে তা জানানো হবে।

সূত্র: ডেইলি-বাংলাদেশ, ডেইলি ইনকিলাব, এনপিবি নিউজ (২৭ অক্টোবর ২০২৬-এর প্রতিবেদন)।

Discussion & Comments

Leave a public comment

Replying to
Loading comments...