ঘূর্ণিঝড় ‘অর্ণব’ শক্তি বাড়িয়ে অতি প্রবল রূপ নিল: বাংলাদেশের চার সমুদ্রবন্দরে ৩ নম্বর সতর্ক সংকেত
বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট ঘূর্ণিঝড় ‘অর্ণব’ আরও শক্তি সঞ্চয় করে অতি প্রবল ঘূর্ণিঝড়ে পরিণত হয়েছে। মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর ২০২৬) ভোরে ঝড়টি পশ্চিম-উত্তরপশ্চিম দিকে এগোতে এগোতে শক্তি বাড়িয়েছে বলে বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তরের বিশেষ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে। এর প্রভাবে দেশের চারটি সমুদ্রবন্দর—চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, মোংলা ও পায়রাকে ৩ নম্বর স্থানীয় সতর্ক সংকেত দেখিয়ে যেতে বলা হয়েছে।
ঝড়টি এখন কোথায়, কতটা শক্তিশালী
আবহাওয়া অধিদপ্তরের ভোর ৩টার বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, অতি প্রবল ঘূর্ণিঝড় ‘অর্ণব’ তখন পশ্চিম-মধ্য বঙ্গোপসাগর ও সংলগ্ন এলাকায় অবস্থান করছিল। তখন এর কেন্দ্র চট্টগ্রাম সমুদ্রবন্দর থেকে প্রায় ৯৯০ কিলোমিটার দক্ষিণপশ্চিমে, কক্সবাজার থেকে প্রায় ৯৪৫ কিলোমিটার দক্ষিণপশ্চিমে এবং মোংলা ও পায়রা থেকে প্রায় ৮৬৫ কিলোমিটার দক্ষিণে ছিল।
ঝড়ের কেন্দ্রের ৬৪ কিলোমিটারের মধ্যে বাতাসের একটানা সর্বোচ্চ গতিবেগ ছিল ঘণ্টায় প্রায় ১১৮ কিলোমিটার, আর দমকা হাওয়া বইছিল ঘণ্টায় ১৫০ কিলোমিটার পর্যন্ত। ঝড়ের কেন্দ্রের কাছাকাছি সাগর খুবই উত্তাল রয়েছে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর।
চার বন্দরে ৩ নম্বর সংকেতের অর্থ কী
৩ নম্বর স্থানীয় সতর্ক সংকেত মানে, বন্দর ও উপকূলীয় এলাকায় সতর্ক থাকতে হবে এবং আবহাওয়ার পরবর্তী নির্দেশনা অনুসরণ করতে হবে। চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, মোংলা ও পায়রা—চারটি বন্দরকেই এই সংকেত বহাল রাখার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। সংকেত মানেই আতঙ্ক নয়; এর অর্থ হলো পরিস্থিতির দিকে নজর রাখা এবং কর্তৃপক্ষের নির্দেশ মেনে চলা।
জেলে ও নৌযানের জন্য সতর্কতা
উত্তর বঙ্গোপসাগরে অবস্থানরত মাছ ধরার নৌকা ও ট্রলারগুলোকে উপকূলের কাছাকাছি থেকে সাবধানে চলাচল করতে বলা হয়েছে। পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত গভীর সাগরে না যাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। সাগর উত্তাল থাকায় ঢেউ ও দমকা হাওয়ার কারণে ছোট নৌযানের ঝুঁকি বেশি থাকে, তাই এই সতর্কতা মেনে চলা জরুরি।
বাংলাদেশে আঘাত হানবে, নাকি ভারতের উপকূলে যাবে
বর্তমান পূর্বাভাস অনুযায়ী, ঘূর্ণিঝড় ‘অর্ণব’ পশ্চিম-উত্তরপশ্চিম দিকে এগিয়ে ২৮ অক্টোবর ভারতের অন্ধ্রপ্রদেশ উপকূল অতিক্রম করতে পারে। অর্থাৎ সরাসরি বাংলাদেশের উপকূলে আঘাত হানার পূর্বাভাস এখন পর্যন্ত দেওয়া হয়নি। তবে ঘূর্ণিঝড়ের গতিপথ বদলাতে পারে, তাই বাংলাদেশের উপকূলীয় এলাকার মানুষেরও আবহাওয়া অধিদপ্তরের নিয়মিত আপডেটের দিকে নজর রাখা উচিত।
সাধারণ মানুষের করণীয়
উপকূলীয় এলাকার বাসিন্দাদের গুজবে কান না দিয়ে কেবল আবহাওয়া অধিদপ্তর ও সরকারি সূত্রের তথ্য অনুসরণ করা উচিত। জরুরি প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র হাতের কাছে রাখা, নৌযান নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া এবং স্থানীয় প্রশাসনের নির্দেশনা মেনে চলাই এখন সবচেয়ে বুদ্ধিমানের কাজ। পরিস্থিতির পরিবর্তন হলে সংকেতের নম্বরও বদলাতে পারে, তাই নিয়মিত আপডেট দেখতে হবে।
পরিশেষে বলা যায়, ঘূর্ণিঝড় ‘অর্ণব’ এখনো বাংলাদেশের উপকূল থেকে অনেক দূরে থাকলেও এর শক্তি ও গতিপথের কারণে সতর্ক থাকার কোনো বিকল্প নেই। বন্দরগুলোতে ৩ নম্বর সংকেত এবং জেলেদের জন্য সতর্কবার্তা সেই সতর্কতারই অংশ। নতুন তথ্য এলে তা জানানো হবে।
সূত্র: বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তরের বিশেষ বিজ্ঞপ্তি, দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ড (বিএসএস প্রতিবেদন), ২৭ অক্টোবর ২০২৬।

Leave a public comment