মিরপুর-১০-এ সড়ক অবরোধ, ৩০ হাজার টাকা ন্যূনতম মজুরির দাবিতে পোশাক শ্রমিকদের বিক্ষোভ
ভূমিকা: ন্যূনতম মাসিক মজুরি ৩০ হাজার টাকা করার দাবিতে বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর ২০২৬) সকালে ঢাকার মিরপুর-১০ গোল চত্বরে সড়ক অবরোধ করেছেন কয়েকটি পোশাক কারখানার কয়েকশ শ্রমিক। সকাল ১০টার দিকে শুরু হওয়া অবরোধে মিরপুর-১০ ও আশপাশের সড়কে তীব্র যানজট তৈরি হয়, কর্মস্থলে যাওয়া মানুষকে পায়ে হেঁটে গন্তব্যে যেতে দেখা যায়। পুলিশ জানিয়েছে, দুপুর সাড়ে ১২টা পর্যন্ত শ্রমিকরা সড়ক অবরোধ করে রেখেছিলেন এবং তাঁদের বোঝানোর চেষ্টা চলছিল।
সকালে যা ঘটল মিরপুর-১০-এ
সকাল ১০টার দিকে মিরপুর-১০ গোল চত্বরে জড়ো হন কয়েকটি কারখানার শ্রমিক। তাঁরা সড়কে অবস্থান নিলে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায় এবং চারপাশের সড়কে গাড়ির লম্বা সারি তৈরি হয়। কর্মস্থলে যাওয়া অনেক মানুষ বাস থেকে নেমে হেঁটে চলতে শুরু করেন।
পুলিশ কী বলছে
পুলিশ জানিয়েছে, দুপুর সাড়ে ১২টা পর্যন্ত শ্রমিকরা সড়ক অবরোধ করে রেখেছিলেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে পুলিশ ঘটনাস্থলে উপস্থিত ছিল এবং শ্রমিকদের বোঝানোর চেষ্টা চলছিল। পুলিশের বক্তব্য অনুযায়ী, আলোচনার মাধ্যমে সড়ক স্বাভাবিক করার চেষ্টা করা হচ্ছিল, যাতে সাধারণ মানুষের চলাচলে আর বিঘ্ন না ঘটে।
কেন ৩০ হাজার টাকা চাইছেন শ্রমিকরা
শ্রমিকদের বক্তব্য, বর্তমান বেতনে ঢাকায় বাসা ভাড়া, খাবার, যাতায়াত ও পরিবারের খরচ চালানো কঠিন হয়ে পড়ছে। দ্রব্যমূল্য বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে সংসারের চাপও বেড়েছে। তাই তাঁরা ন্যূনতম মাসিক মজুরি ৩০ হাজার টাকা করার দাবি জানাচ্ছেন, যাতে একটি পরিবারের মৌলিক চাহিদা মেটানো যায়।
আগেও হয়েছে এমন বিক্ষোভ
পোশাক খাতে মজুরি ও অন্যান্য সুযোগ-সুবিধা নিয়ে আগেও নানা সময়ে শ্রমিকদের বিক্ষোভ ও দাবি উঠেছে। মজুরি কাঠামো নিয়ে আলোচনা হলে শ্রমিকরা তাঁদের জীবনযাত্রার ব্যয়ের কথা তুলে ধরেন। এবারের মিরপুর-১০-এর অবরোধও সেই ধারাবাহিক দাবিরই অংশ বলে মনে হচ্ছে।
মালিকপক্ষ ও সরকারের অবস্থান
মালিকপক্ষ সাধারণত উৎপাদন ব্যয়, ক্রেতাদের চাপ ও রপ্তানি আদেশের কথা তুলে ধরে। সরকারের দিক থেকে সাধারণত আলোচনা ও সমঝোতার মাধ্যমে সমস্যা সমাধানের কথা বলা হয়। শ্রমিকদের দাবি ও মালিকদের সক্ষমতার মধ্যে একটি গ্রহণযোগ্য সমাধানে পৌঁছাতে সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর মধ্যে আলোচনা জরুরি বলে মনে করা হয়।
সাধারণ মানুষের ভোগান্তি
অবরোধের কারণে সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়েন সাধারণ যাত্রী ও কর্মজীবী মানুষ। যানজটে আটকে থাকা বাস ও অন্যান্য যানবাহনের যাত্রীদের অনেককে হেঁটে গন্তব্যে যেতে হয়। এতে অফিস, স্কুল ও অন্যান্য কাজে যাওয়া মানুষের সময় নষ্ট হয় এবং দৈনন্দিন জীবনযাত্রা ব্যাহত হয়।
উপসংহার
মিরপুর-১০-এর অবরোধ আবারও দেখিয়ে দিল, মজুরি নিয়ে শ্রমিকদের ক্ষোভ কতটা গভীর। সড়ক অবরোধ সাময়িকভাবে জনদুর্ভোগ বাড়ালেও এর পেছনে রয়েছে জীবনযাত্রার ব্যয় মেটানোর দাবি। সংশ্লিষ্ট সবার সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে একটি টেকসই সমাধানই এই সংকট থেকে বের হওয়ার পথ।
সূত্র: দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ড (২৯ অক্টোবর ২০২৬), বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম (২৯ অক্টোবর ২০২৬), দ্য ফিন্যান্সিয়াল এক্সপ্রেস (অক্টোবর ২০২৬), নিউ এজ (১৬ অক্টোবর ২০২৬)।

Leave a public comment