সচিবালয় স্থানান্তরের পরিকল্পনার প্রতিবাদে আগারগাঁওয়ে সড়ক অবরোধ শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের
ভূমিকা:
সচিবালয়কে শেরেবাংলা নগরের পুরোনো বাণিজ্য মেলার মাঠে স্থানান্তরের পরিকল্পনার প্রতিবাদে বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর ২০২৬) ঢাকার আগারগাঁওয়ে বেগম রোকেয়া সরণি অবরোধ করেছেন শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের (শেকৃবি) কয়েকশ শিক্ষার্থী। সকাল ১০টা থেকে বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে জড়ো হওয়ার পর বেলা পৌনে ১২টার দিকে তাঁরা বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রের সামনের সড়ক অবরোধ করেন। পুলিশের সঙ্গে কথা বলার পর দুপুর সোয়া ১২টার দিকে তাঁরা সড়ক ছেড়ে দেন বলে জানা গেছে।
বৃহস্পতিবার যা ঘটল আগারগাঁওয়ে
প্রতিবেদন অনুযায়ী, শিক্ষার্থীরা সকাল ১০টা থেকে ক্যাম্পাসে জমায়েত হতে শুরু করেন। এরপর বেলা ১১টা ৪৫ মিনিটের দিকে কয়েকশ শিক্ষার্থী বেগম রোকেয়া সরণিতে অবস্থান নেন। তাঁরা ‘সচিবালয় স্থানান্তর মানি না মানবো না’, ‘আপস না সংগ্রাম, সংগ্রাম সংগ্রাম’ এবং ‘টেক ব্যাক, টেক ব্যাক’ স্লোগান দেন। ঢাকা মহানগর পুলিশের তেজগাঁও বিভাগের অতিরিক্ত উপকমিশনার মোহাম্মদ ফজলুল করিম জানিয়েছেন, শিক্ষার্থী ও শিক্ষকদের সঙ্গে কথা বলার পর দুপুর ১২টা ১৫ মিনিটের দিকে সড়ক ছেড়ে দেওয়া হয়।
কেন আন্দোলন করছেন শিক্ষার্থীরা
শিক্ষার্থীদের মূল দাবি, শেরেবাংলা নগরের পুরোনো বাণিজ্য মেলার মাঠ বিশ্ববিদ্যালয়কে ফিরিয়ে দিতে হবে এবং সেখানে গবেষণার কাজের জন্য জায়গা রাখতে হবে। তাঁদের যুক্তি, এই মাঠটি মূলত বিশ্ববিদ্যালয়েরই জমি ছিল। আন্দোলনে অংশ নেওয়া এক শিক্ষার্থী বলেছেন, সচিবালয় সেখানে স্থানান্তরিত হলে এলাকার পরিবেশগত ভারসাম্য মারাত্মকভাবে নষ্ট হবে। আরেক শিক্ষার্থীর বক্তব্য, গবেষণার জন্য তাঁদের হাতে পর্যাপ্ত জমিই নেই, তাই জমির মালিকানা বিশ্ববিদ্যালয়কে ফিরিয়ে দিতে হবে। একটি প্রতিবেদনে এই আন্দোলনকে তৃতীয় দিনের অবরোধ হিসেবে বর্ণনা করা হয়েছে।
গত কয়েকদিনে যা হয়েছে
এই বিক্ষোভ হঠাৎ শুরু হয়নি। শিক্ষার্থীরা কয়েকদিন ধরেই স্থানান্তর পরিকল্পনার বিরোধিতা করে আসছেন। মঙ্গলবার বিকেলে প্রস্তাবিত সচিবালয় কমপ্লেক্সের জন্য মাটি পরীক্ষার কাজ চলার সময় শিক্ষার্থীরা মাঠে গিয়ে প্রতিবাদ জানান এবং মাটি পরীক্ষার সরঞ্জাম ও দুটি গাড়ি ক্যাম্পাসে নিয়ে যান বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ রয়েছে। বুধবার সকালে তাঁরা আবার মাঠে যান এবং এশিয়া আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মেলার জন্য তৈরি করা গেট ও কয়েকটি স্টল ভাঙচুর করেন। মেলার আয়োজকদের দাবি, এতে তাঁদের আর্থিক ক্ষতি হয়েছে। পরে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপে শিক্ষার্থীরা ক্যাম্পাসে ফিরে যান। বুধবার শিক্ষার্থীরা মাঠ খালি করতে মেলা আয়োজকদের ১২ ঘণ্টার সময়সীমাও দিয়েছিলেন বলে একটি প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে।
বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ ও পুলিশের বক্তব্য
বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রক্টর অধ্যাপক মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম বলেছেন, শিক্ষার্থীরা নিজেদের দাবিতে আন্দোলন করছেন, তবে তাঁরা কোনো ধরনের সহিংসতা বা ভাঙচুরে জড়াবেন না বলে আশ্বাস দিয়েছেন। পুলিশের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, শিক্ষার্থী ও শিক্ষকদের সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে সড়ক অবরোধ তুলে নেওয়া হয়েছে এবং এদিন কোনো অপ্রীতিকর ঘটনার খবর পাওয়া যায়নি।
সচিবালয় স্থানান্তর পরিকল্পনা নিয়ে প্রশ্ন
পুরোনো বাণিজ্য মেলার মাঠে সচিবালয় স্থানান্তরের পরিকল্পনা নিয়ে এখন দুটি বিপরীত অবস্থান স্পষ্ট। একদিকে সরকারি পরিকল্পনার অংশ হিসেবে ওই জমিতে নতুন সচিবালয় কমপ্লেক্স গড়ার কাজ এগোচ্ছে বলে প্রতিবেদনে ইঙ্গিত রয়েছে, অন্যদিকে শিক্ষার্থীরা বলছেন, জমিটি গবেষণার জন্য বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রয়োজন। এই বিরোধের সমাধান কীভাবে হবে, তা এখনো স্পষ্ট নয়। শিক্ষার্থীরা বলেছেন, মাঠ ফিরিয়ে না দেওয়া পর্যন্ত তাঁদের আন্দোলন চলবে।
উপসংহার
আগারগাঁওয়ের অবরোধ দেখিয়ে দিয়েছে, সচিবালয় স্থানান্তর এখন আর শুধু একটি প্রশাসনিক পরিকল্পনা নয়—এটি শিক্ষা, গবেষণা ও নগর পরিকল্পনার প্রশ্নে পরিণত হয়েছে। শিক্ষার্থীদের দাবি ও সরকারের পরিকল্পনার মধ্যে একটি গ্রহণযোগ্য সমাধান না এলে আগামী দিনগুলোতেও আগারগাঁও এলাকায় উত্তেজনা থাকতে পারে। আলোচনার মাধ্যমেই এই বিরোধের স্থায়ী সমাধান আসতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
সূত্র: প্রথম আলো (২৯ অক্টোবর ২০২৬), দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ড (২৯ অক্টোবর ২০২৬), দ্য ফিন্যান্সিয়াল এক্সপ্রেস (২৮ অক্টোবর ২০২৬), টাইমস অব বাংলাদেশ (২৯ অক্টোবর ২০২৬)।

Leave a public comment