বিশ্বস্পন্দন
সরাসরি আপডেট — বস্তুনিষ্ঠ সংবাদের বিশ্বস্ত প্ল্যাটফর্ম
Online version
অনলাইন সংস্করণ
বিজ্ঞাপন ব্যানার স্পেস — বিশেষ প্রচারণা ও অফার
⚡ সর্বশেষ খবর
সর্বশেষ খবর লোড হচ্ছে...
DSE SHARE MARKET Loading...
Loading share prices...
Source: StockChartBD / DSE Intelligence · Daily price data · Delayed

সাজেকের অস্থিরতায় বাতিল হলো রাষ্ট্রপতির তিন জেলার সফর

 

Sajek Valley hills and road illustration

রাষ্ট্রপতির তিন জেলার পূর্বনির্ধারিত সফর বাতিল করা হয়েছে। ২৮ থেকে ৩০ অক্টোবর চট্টগ্রাম, রাঙামাটি ও বান্দরবান সফরের কথা ছিল। কিন্তু সাজেক উপত্যকায় চলমান অস্থিরতা এবং রাঙামাটির বাঘাইছড়িতে অনির্দিষ্টকালের সড়ক অবরোধের কারণে পুরো সফরসূচি বাতিল করা হয়েছে বলে রাষ্ট্রপতি কার্যালয়ের প্রটোকল কর্মকর্তা আবুল কালাম মো. লুৎফর রহমান দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ডকে নিশ্চিত করেছেন।

সফরসূচিতে কী ছিল

সফরসূচি অনুযায়ী, রাষ্ট্রপতির ২৮ অক্টোবর চট্টগ্রামে যাওয়ার কথা ছিল। সেখানে তিনি ওল্ড হাউস পরিদর্শন করতেন এবং একটি সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে যোগ দিতেন। রাতে চট্টগ্রাম সার্কিট হাউসে থাকার পর ২৯ অক্টোবর রাঙামাটি যাওয়ার কথা ছিল, যেখানে আরেকটি সংবর্ধনা অনুষ্ঠান ছিল। একই দিন বান্দরবানের নীলগিরিতে রাত কাটানোর পর ৩০ অক্টোবর কেওক্রাডং পরিদর্শনের কথা ছিল। সাজেকের পরিস্থিতির কারণে এই পুরো সূচিই এখন বাতিল।

কেন বাতিল হলো সফর

সাজেকের সড়কে গত ২২ অক্টোবর থেকে অনির্দিষ্টকালের অবরোধ চলছে। সাজেক গণঅধিকার রক্ষা কমিটি ও সাজেক কারবারি অ্যাসোসিয়েশন যৌথভাবে এই অবরোধ ডেকেছে। ২৭ অক্টোবর অবরোধের ষষ্ঠ দিনেও সাজেক প্রায় বিচ্ছিন্ন ছিল। এই পরিস্থিতিতে তিন পার্বত্য জেলার সফর করা নিরাপদ মনে করেনি কর্তৃপক্ষ।

অবরোধের ষষ্ঠ দিনে সাজেকের অবস্থা

২৭ অক্টোবর ভোর ৬টা থেকে আন্দোলনকারীরা আবার অবরোধ শুরু করেন। মাচালং ১৪ কিলোমিটার পয়েন্ট, গঙ্গারাম বাজার ও বাঘাইহাটের হাজাছড়ায় টায়ার জ্বালিয়ে সড়ক বন্ধ করে দেওয়া হয়। এতে সাজেক সড়কে যান চলাচল সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে যায়। পুলিশের টহল জোরদার করা হয়েছে বলে জানা গেছে।

আলোচনা কেন ভেঙে গেল

২৬ অক্টোবর বিকেল ৩টা থেকে সন্ধ্যা সাড়ে ৫টা পর্যন্ত উজো বাজারে সরকারি প্রতিনিধিদল ও আন্দোলনকারীদের মধ্যে বৈঠক হয়। সরকারি দলের নেতৃত্বে ছিলেন পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি ও খাগড়াছড়ির সংসদ সদস্য ওয়াদুদ ভূইয়া। আন্দোলনকারীদের পক্ষে নেতৃত্ব দেন সাজেক গণঅধিকার রক্ষা কমিটির আহ্বায়ক বাবুধন চাকমা।

বৈঠকে আন্দোলনকারীদের পাঁচ দফা দাবির মধ্যে চারটি মেনে নেওয়া হলেও একটি দাবি নিয়ে সমঝোতা হয়নি। সাজেক থেকে পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতির (জেএসএস) সন্তু লারমা অংশের সশস্ত্র সদস্যদের সরিয়ে নেওয়ার সময়সীমা নিয়ে মতবিরোধ দেখা দেয়। সরকার তিন সপ্তাহ সময় চেয়েছিল, আর আন্দোলনকারীরা পাঁচ দিনের মধ্যে সরিয়ে নেওয়ার দাবি জানিয়েছিলেন। এই মতবিরোধের কারণে বৈঠক ভেঙে যায় এবং অবরোধ চলতে থাকে। বাবুধন চাকমা বলেছেন, দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত অবরোধ চলবে।

আন্দোলনকারীদের দাবিগুলো কী

আন্দোলনকারীদের দাবির মধ্যে রয়েছে ২২ অক্টোবর শান্তিপূর্ণ আন্দোলনকারীদের ওপর হামলায় জড়িতদের শাস্তি, ওই ঘটনায় অভিযুক্ত দুই সেনা কর্মকর্তার পার্বত্য চট্টগ্রাম থেকে বদলি, ৩০ জন নামীয় ও প্রায় এক হাজার অজ্ঞাত আসামির বিরুদ্ধে করা মামলা প্রত্যাহার এবং নিরপেক্ষ বিচার বিভাগীয় তদন্ত। এ ছাড়া উজো বাজারে ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীদের ক্ষতিপূরণ, এলাকা থেকে সেনা ও পুলিশ সদস্য প্রত্যাহার, আহতদের চিকিৎসা ব্যয় দেওয়া এবং সাজেক থেকে সশস্ত্র জেএসএস সদস্যদের সরিয়ে নিয়ে চাঁদাবাজি ও ভীতি প্রদর্শন বন্ধের দাবিও রয়েছে।

পর্যটক ও স্থানীয়দের ওপর প্রভাব

অবরোধের প্রথম দিন ২২ অক্টোবর উজো বাজারে পর্যটকবাহী গাড়িবহর আটকে দেওয়া নিয়ে সংঘর্ষ হয়। আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তরের (আইএসপিআর) বিবৃতি অনুযায়ী, সেদিন ইউপিডিএফের সশস্ত্র সদস্যরা পর্যটক ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ওপর গুলি চালায়। পরে সেনা ও পুলিশের পাহারায় প্রায় দুই হাজার ৯৩৩ জন পর্যটককে নিরাপদে সরিয়ে নেওয়া হয়। জেলা প্রশাসন সাময়িকভাবে সাজেক ভ্রমণে পর্যটকদের ওপর নিষেধাজ্ঞাও দিয়েছিল। সড়ক বন্ধ থাকায় পর্যটননির্ভর এলাকার স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ব্যাহত হচ্ছে।

সাজেকের এই অচলাবস্থা কবে কাটবে, তা এখনো নিশ্চিত নয়। নতুন করে কোনো সমঝোতা হলে বা অবরোধ উঠে গেলে রাষ্ট্রপতির সফরের নতুন তারিখ ঘোষণা করা হতে পারে, তবে এ বিষয়ে এখনো কোনো ঘোষণা আসেনি। সাজেকের পরিস্থিতির দিকে এখন সবার চোখ।

সূত্র: দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ড, ২৭ অক্টোবর ২০২৬; প্রথম আলো (ইংরেজি সংস্করণ), ২২ অক্টোবর ২০২৬; বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম, ২২ অক্টোবর ২০২৬।

Discussion & Comments

Leave a public comment

Replying to
Loading comments...