বিশ্বস্পন্দন
সরাসরি আপডেট — বস্তুনিষ্ঠ সংবাদের বিশ্বস্ত প্ল্যাটফর্ম
Online version
অনলাইন সংস্করণ
বিজ্ঞাপন ব্যানার স্পেস — বিশেষ প্রচারণা ও অফার
⚡ সর্বশেষ খবর
সর্বশেষ খবর লোড হচ্ছে...
DSE SHARE MARKET Loading...
Loading share prices...
Source: StockChartBD / DSE Intelligence · Daily price data · Delayed

গঙ্গা চুক্তির মেয়াদ শেষ হচ্ছে ১২ ডিসেম্বর, নতুন চুক্তি নিয়ে চাপ বাড়ছে বাংলাদেশের

 


ভূমিকা:

ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের ৩০ বছরের গঙ্গা পানি বণ্টন চুক্তির মেয়াদ শেষ হতে আর মাত্র দেড় মাসের মতো বাকি। ১৯৯৬ সালের ১২ ডিসেম্বর স্বাক্ষরিত এই চুক্তি শেষ হচ্ছে ২০২৬ সালের ১২ ডিসেম্বর। নতুন চুক্তি না হলে শুষ্ক মৌসুমে পানির সংকট আরও গভীর হতে পারে বলে সতর্ক করা হচ্ছে, যা কোটি মানুষের জীবিকার ওপর প্রভাব ফেলতে পারে। ২৯ অক্টোবর প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে রাজশাহী থেকে জানানো হয়েছে, নতুন চুক্তি করতে ব্যর্থ হলে পানির ঘাটতি বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে.


১৯৯৬ সালের চুক্তি কী ছিল

১৯৯৬ সালে স্বাক্ষরিত গঙ্গা চুক্তি মূলত শুষ্ক মৌসুমে ভারতের ফারাক্কা বাঁধে পানি ভাগাভাগির নিয়ম ঠিক করে দেয়। জানুয়ারি থেকে মে পর্যন্ত দশ দিনের পর্যায়ে পানি ভাগের হিসাব করা হয়। দুই দেশের যৌথ কমিটি ফারাক্কা ও বাংলাদেশের হার্ডিঞ্জ ব্রিজে পানির প্রবাহ পরিমাপ করে। তবে এই চুক্তিতে বাংলাদেশের পানির হিস্যার নিশ্চয়তা দেওয়ার মতো সুনির্দিষ্ট গ্যারান্টি ধারা ছিল না, যা এখন আলোচনার কেন্দ্রে.


বাংলাদেশ কী চাইছে

পানিসম্পদ মন্ত্রী শহিদউদ্দিন চৌধুরী আনী ৮ অক্টোবর ঢাকায় জানিয়েছেন, বাংলাদেশ পুরোনো চুক্তি শুধু নবায়ন নয়, নতুন চুক্তি চায়। নতুন চুক্তিতে ১৯৭৭ সালের চুক্তির মতো গ্যারান্টি ধারা ফিরিয়ে আনার দাবি জানিয়েছে ঢাকা, যাতে শুষ্ক মৌসুমে বাংলাদেশের হিস্যা আরও নিশ্চিত হয়। মন্ত্রী আশা প্রকাশ করেছেন, যৌথ নদী কমিশনের মাধ্যমে আলোচনা চালিয়ে ১২ ডিসেম্বরের আগেই নতুন চুক্তি করা সম্ভব হবে.


কূটনৈতিক পথেই সমাধানের আশা

পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবিরও বলেছেন, আলোচনা ও কূটনীতির মাধ্যমেই বিষয়টির সমাধান হবে বলে ঢাকা আশা করে। তিনি আন্তর্জাতিক আইনে পানি ভাগাভাগির নীতির কথাও উল্লেখ করেছেন। বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে ৫৪টি অভিন্ন নদী থাকলেও গঙ্গাই একমাত্র নদী, যার জন্য ৩০ বছরের পানি বণ্টন চুক্তি রয়েছে। তাই এই চুক্তির ভবিষ্যৎ দুই দেশের সম্পর্কের জন্যও গুরুত্বপূর্ণ.


কেন এই চুক্তি এত গুরুত্বপূর্ণ

বাংলাদেশ ভাটির দেশ। শুষ্ক মৌসুমে গঙ্গার পানি কমে গেলে কৃষি, মৎস্য ও সুপেয় পানির ওপর চাপ পড়ে। গবেষকরা সতর্ক করেছেন, পানি কমলে লবণাক্ততা বাড়তে পারে এবং সুন্দরবনের মতো পরিবেশের ওপরও প্রভাব পড়তে পারে। বর্ষায় অতিরিক্ত পানি বন্যা ও কৃষি ক্ষতির কারণ হয় বলেও বাংলাদেশের পক্ষ থেকে উদ্বেগ জানানো হয়েছে, যদিও বর্তমান চুক্তি মূলত শুষ্ক মৌসুমের ভাগাভাগি নিয়ে.


সামনে কী হতে পারে

এখনো প্রকাশ্যে নতুন চুক্তি চূড়ান্ত করার কোনো নির্দিষ্ট সময়সূচি জানা যায়নি। আলোচনা চলছে যৌথ নদী কমিশনের মাধ্যমে। ডিসেম্বরের সময়সীমা ঘনিয়ে আসায় আগামী কয়েক সপ্তাহের আলোচনাই ঠিক করবে, শুষ্ক মৌসুমের আগে নতুন চুক্তি হবে কি না, নাকি অস্থায়ী কোনো ব্যবস্থায় চলতে হবে। বাংলাদেশের দাবি স্পষ্ট: গ্যারান্টিসহ দীর্ঘমেয়াদি একটি নতুন চুক্তি.


উপসংহার

গঙ্গা চুক্তি শুধু একটি কাগজপত্র নয়; এটি লাখো কৃষক, জেলে ও নদী-নির্ভর মানুষের জীবিকার সঙ্গে জড়িত। সময় কম, তাই দুই দেশের আলোচনায় অগ্রগতি এখন সবার নজরে। ডিসেম্বরের আগেই একটি ন্যায্য ও নিশ্চিত চুক্তি হলে তা বাংলাদেশের জন্য বড় স্বস্তি হবে.


সূত্র: নিউ স্ট্রেইটস টাইমস (২৯ অক্টোবর ২০২৬), দ্য ইকোনমিক টাইমস / এএনআই (৮ অক্টোবর ২০২৬), ফার্স্টপোস্ট (অক্টোবর ২০২৬)।

Discussion & Comments

Leave a public comment

Replying to
Loading comments...